মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক
  • আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি পাটওয়ারীর
  • মস্কোতে নেওয়া হলো খামেনিকে
  • ট্রাম্পকে খোলা চ্যালেঞ্জ ইরানের
  • ঈদবাজারে ফুটপাতের দাপট, স্বল্প আয়ে স্বপ্নের কেনাকাটা
  • মালদ্বীপে নিহত ৫ বাংলাদেশির লাশ দ্রুত দেশে পাঠানো হবে
  • চীনে আন্তর্জাতিক এগ্রোকেমিক্যাল ও ক্রপ প্রটেকশন প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে এনএসি

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে উত্তাপ, মুখোমুখি সরকার–বিরোধী দল

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত:
১২ মার্চ ২০২৬, ১১:১০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর কার্যকর সংসদ নিয়ে জনমনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তার মাঝেই প্রথম দিন থেকেই উত্তাপ ছড়িয়েছে রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে। এ ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে সরকারি দল ও বিরোধীদল।

সরকারি দল বলছে, সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া একটি সাংবিধানিক ও প্রচলিত প্রথা। সেই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

তবে বিরোধীদল এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। তার মতে, সংবিধান ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, সরকার কেন এই পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে বিএনপির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিষয়টিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি পুরোনো রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উদ্যোগ নিতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, সবকিছুতে বিরোধিতা করা হবে না, আবার অন্ধ সমর্থনও দেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে রাজনৈতিকভাবে বিষয়গুলো মোকাবিলা করা হবে।

তিনি আরও জানান, বাধ্য না হলে কোনো বিষয় আদালতে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বহু বছর ধরে কার্যকর সংসদের অভাব দেশের মানুষ গভীরভাবে অনুভব করেছে। একতরফা সরকার, নিয়ন্ত্রিত বিরোধী দল এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কারণে সংসদের কার্যকারিতা অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থান ও ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন করে সংসদকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এবার জাতীয় সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি, আর বিরোধী শিবিরে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি।

সবার প্রত্যাশা, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একটি প্রাণবন্ত ও কার্যকর সংসদ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর