মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ইউরোপের দেশগুলো নাকচ করলো ট্রাম্পের হরমুজ আহ্বান, কূটনৈতিক পথেই গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
  • শ্রাবন্তীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি: "আইটেম গানে পারফর্ম করতে আমার দারুণ লাগে"
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক

৪৫০ কোটি টাকার ‘নীরব বিলাস’ তালাবন্দী—কর্ণফুলী টানেল রিসোর্টে অচলাবস্থা

মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত:
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:৫২

চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন অধ্যায় সূচনা করলেও কর্ণফুলী টানেলের অনুষঙ্গ হিসেবে নির্মিত বিলাসবহুল রিসোর্টটি এখনো কার্যত অচল। শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা এই আন্তর্জাতিক মানের অতিথিশালা চালু না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয় নিয়ে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম, বিশেষ করে আনোয়ারা-কর্ণফুলী অঞ্চলের পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত এই রিসোর্ট এখন নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে আনোয়ারা প্রান্তে নির্মাণ করা হয় এই রিসোর্ট কমপ্লেক্স। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪৫০ কোটি টাকা। অত্যাধুনিক এই স্থাপনায় রয়েছে পাঁচ হাজার বর্গফুটের একটি ভিআইপি বাংলো, ছয়টি সুসজ্জিত কক্ষ ও সুইমিংপুল।

পাশাপাশি রয়েছে আরও ৩০টি বাংলো, ৪৮টি মোটেল মেস, কনভেনশন সেন্টার, রেস্টুরেন্ট, ফুড কোর্ট, জিমনেসিয়াম, অ্যাম্ফিথিয়েটার, বিনোদন এলাকা, জাদুঘর, মসজিদ, স্বাস্থ্য কেন্দ্র, পানি শোধনাগার ও অভ্যর্থনা ভবনসহ পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো। এত বিশাল অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও রিসোর্টটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়নি। সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিসোর্টটি ইজারা দিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখায়নি। দরপত্রে অংশ নেয় মাত্র দুটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান। তারাও যে ইজারামূল্য প্রস্তাব করেছে, তা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রাক্কলনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফলে প্রত্যাশিত মূল্য না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করতে হয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বলছেন, রিসোর্টটি আন্তর্জাতিক মানের হলেও শুরুতে এটি চালাতে ঝুঁকি দেখছেন অনেক ব্যবসায়ী। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক অবস্থায় যেতে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলেও ধারণা তাদের। তবে বাস্তবতা হলো, এতদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় রিসোর্টটির রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

চট্টগ্রামের স্থানীয় পর্যায়ে এই রিসোর্ট ঘিরে প্রত্যাশা ছিল ভিন্ন। কর্ণফুলী টানেল চালুর মাধ্যমে আনোয়ারা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামকে পর্যটন, শিল্প ও বিনিয়োগের নতুন হাব হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। এই রিসোর্ট চালু হলে দেশি-বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও করপোরেট অতিথিদের আনাগোনা বাড়বে, তৈরি হবে কর্মসংস্থান। কিন্তু বাস্তবে সেই সম্ভাবনা এখনো কাগজেই রয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্ণফুলী টানেল রিসোর্ট শুধু একটি অতিথিশালা নয়, এটি চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে এটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের অপচয়ের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে উপযুক্ত ইজারাদার নির্বাচন এবং পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রিসোর্টটি চালু করা না গেলে চট্টগ্রামের সম্ভাবনার গল্পে এটি এক বড় ব্যর্থতার অধ্যায় হিসেবেই যুক্ত হবে।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর