মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ইউরোপের দেশগুলো নাকচ করলো ট্রাম্পের হরমুজ আহ্বান, কূটনৈতিক পথেই গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
  • শ্রাবন্তীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি: "আইটেম গানে পারফর্ম করতে আমার দারুণ লাগে"
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক

স্বপ্নের ঘর থেকে মৃত্যু ফাঁদ চর কলাতলীর আবাসনে ২০ বছরের নীরব কান্না

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, মনপুরা (ভোলা)

প্রকাশিত:
৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫:১৫

ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। এই মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন ৫ নং কলাতলী। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকার দারিদ্র্যপীড়িত ও ভূমিহীন মানুষের মাথা গোঁজার আশ্রয় নিশ্চিত করতে চর কলাতলী ইউনিয়নে একটি আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রায় ১৭ শত পরিবারের জন্য নির্মিত সেই ঘরগুলো এক সময় ছিল আশার আলো, বেঁচে থাকার ভরসা। কিন্তু ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ সেই আশার ঘরগুলো রূপ নিয়েছে ভয়ংকর ধ্বংসস্তূপে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘরের টিন ভেঙে পড়েছে, পিলারে বড় বড় ফাটল, কোথাও আবার দরজা-জানালার কোনো চিহ্নই নেই। কিছু ঘরে কেবল দাঁড়িয়ে আছে লোহার রড আর ভাঙা পিলারের কঙ্কাল যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় অবহেলার।

বর্ষা এলেই এই ঘরগুলোতে বসবাস করা হয়ে ওঠে আরও ভয়াবহ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি জমে যায়, ছাঁদ থেকে ঝরে পড়ে মাটি ও সিমেন্টের টুকরো। শিশু, বৃদ্ধ ও নারীরা প্রতিনিয়ত বসবাস করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। ঝড়-বৃষ্টি বা রাতে একটু বেশি বাতাস বইলেই আতঙ্কে কাটে পুরো পরিবার।

এক বাসিন্দা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,“এই ঘরে ঢুকলে মনে হয় মৃত্যুর মুখে ঢুকছি। তবুও যাওয়ার জায়গা নেই বলেই এখানেই থাকতে হচ্ছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসন প্রকল্পটি চালুর পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো সংস্কার কাজ হয়নি। একাধিকবার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও মেলেনি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। শুধু আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে পড়ে আজ তারা নিঃস্ব।চর কলাতলীর মতো একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়নে যেখানে জীবন এমনিতেই কঠিন, সেখানে সরকারের এই আবাসন প্রকল্প ছিল মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ভরসার ঘরগুলোই আজ মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই আর কত বছর কেটে গেলে এই ঘরগুলো সংস্কারের আলো দেখবে?নাকি মানুষের জীবনের মূল্য কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

চর কলাতলীর মানুষ আজও অপেক্ষায় কখন রাষ্ট্র তাদের মাথার উপর ভাঙতে বসা ছাদটুকু অন্তত মেরামত করবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুছা জানান,কলাতলী ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্পের জরাজীর্ণ ঘরের বিষয়টি সরজমিন প্রদর্শনী করে দেখবো।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর