মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক
  • আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি পাটওয়ারীর
  • মস্কোতে নেওয়া হলো খামেনিকে

হৃতিক

আমার ভেতরে ২৫ ভাগ বাঙালির রক্ত ​​জ্বলজ্বল করছে

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত:
৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:৫২

গ্রিক গড-এর মতো চেহারা, সুঠাম দেহ আর মায়াবী চোখ— এই দিয়েই তো গত আড়াই দশক ধরে বলিউড শাসন করছেন হৃতিক রোশন। কিন্তু এই সুপারস্টারের শরীরেও যে মিশে আছে ২৫ শতাংশ খাঁটি বাঙালির রক্ত, সে কথা কজন জানতেন? সম্প্রতি বছরের শুরুতে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে হৃতিক নিজেই মনে করিয়ে দিলেন তাঁর শিকড়ের কথা। ক্যাপশনে লিখলেন, “বোধহয় এভাবেই আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত বইছে।”

শিকড়ের টানে কলকাতা থেকে মুম্বাই হৃতিকের এই বাঙালি সত্তার যোগসূত্র তাঁর দাদি— ইরা রোশন।

বিয়ের আগে যিনি ছিলেন কলকাতার মেয়ে ইরা মৈত্র। বিশ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কলকাতা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিল্লিতে। সেখানেই আলাপ প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে। সেই আলাপই পরে পরিণয়ে রূপ নেয়।

সংগীতের সেই সুরের মূর্ছনা আজও যেন হৃতিকের প্রতিটি ছন্দে জীবন্ত।

‘ডুগগু’ নামের সেই ছোট্ট ছেলেটি পরিবারে ইরা ছিলেন বটগাছের মতো। হৃতিকের বাবা রাকেশ রোশনের ডাকনাম ছিল ‘গুড্ডু’। সেই নামের সঙ্গে মিলিয়ে আদরের নাতির নাম ‘ডুগগু’ রেখেছিলেন দাদি ইরা-ই।

মুম্বাইয়ের চাকচিক্যের মাঝেও নাতিকে তিনি বড় করেছিলেন বাঙালি আদব-কায়দায়। হৃতিক তাঁকে আদর করে ডাকতেন ‘ঠামি’। পিয়ানো বাজানো থেকে শুরু করে মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাওয়ানো— হৃতিকের শৈশব ছিল এক টুকরো বাংলাতেই ঘেরা।
জানুয়ারি মাসটি হৃতিকের জীবনে সবসময়ই একটু বেশি স্পেশাল। এই মাসেই তাঁর জন্মদিন, এই মাসেই মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’।

আর অদ্ভুতভাবে, তাঁর জীবনের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও ছিল এই কলকাতার বুকেই। বাবা রাকেশ রোশন কিছুটা বাংলা বলতে পারলেও হৃতিকের জিভে সেই টান নেই ঠিকই, কিন্তু তাঁর রুচিতে আজও মিশে আছে ‘ঠামি’-র হাতের রান্না করা সেই মাছের স্বাদ।

২০০৫ সালে জীবনাবসান হয় ইরা রোশনের। শৈশবের সেই নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতিগুলো হৃতিক সযত্নে আগলে রেখেছেন। আজও যখন এই বলিউড তারকা বাঙালি সংস্কৃতির স্পর্শ পান, তাঁর রক্ত যেন চনমন করে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সেই স্বীকারোক্তি কেবল একটি ক্যাপশন নয়, বরং এক নাতির পক্ষ থেকে তাঁর ‘ঠামি’-কে দেওয়া এক পরম শ্রদ্ধাঞ্জলি।

৫২-তে পা রাখা হৃতিক বুঝিয়ে দিলেন, যতই তিনি বলিউডের ‘ডুগগু’ বা ‘গ্রিক গড’ হন না কেন, তাঁর হৃদয়ের একটা কোণ আজও সেই মৈত্র বাড়ির মেয়েটির জন্যই বরাদ্দ।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর