মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ইউরোপের দেশগুলো নাকচ করলো ট্রাম্পের হরমুজ আহ্বান, কূটনৈতিক পথেই গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
  • শ্রাবন্তীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি: "আইটেম গানে পারফর্ম করতে আমার দারুণ লাগে"
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অকেজো হয়ে পড়েছে দ্বীপ মনপুরা এলাকার স্লুইসগেটগুলো

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান

প্রকাশিত:
৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৪৭

ভোলা জেলা মনপুরা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় অকেজো হয়ে পড়েছে দ্বীপ মনপুরা এলাকার স্লুইসগেটগুলো। উপজেলার ১৫ টি স্লুইসগেটের মধ্যে ৭ থেকে ৮ টি এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর। এতে বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে রয়েছেন অন্তত ৭০ হাজার কৃষকসহ উপকূলবর্তী সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড মনপুরা উপজেলা'র উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোতে কৃষি জমি রক্ষায় স্লুইসগেট নির্মাণ করে। এসব গেট দিয়ে বৃষ্টির পানি খাল হয়ে সমুদ্রের দিকে চলে যেত। স্লুইসগেটগুলোর মাধ্যমে সমুদ্রের জোয়ারের পানিও নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। তবে ২৫ থেকে ৩০ বছর পর থেকে এসব গেটের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে লোহার গেটগুলো মরিচা পড়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে এবং এখন সেগুলোর অধিকাংশই কার্যক্ষমতা হারিয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, জংলার খাল, রিজির খাল, তালতলা, কোড়ালিয়া, এলাকায় এবং মনপুরা, হাজীরহাট, উত্তর সাকুচিয়া, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের স্লুইসগেটগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো থাকায় বর্ষা এলেই দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। গত বছর জলাবদ্ধতায় রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক জমি এখন অনাবাদী। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন অনেক চাষি ও দিনমজুর।

জংলার খালের স্লুইসগেটের ৪ টি দরজা পানিতে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। প্রতিবারই গেটগুলোতে জোড়াতালির চেষ্টা করা হলেও তা টেকসই হয় না। লাখ লাখ টাকা খরচ হলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না। ফলে বর্ষা মৌসুমে জোয়ার ও বৃষ্টির পানি একত্র হয়ে কৃষিজমিতে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা তৈরি করে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।

এদিকে মনপুরা উপজেলার খাল গুলোতে কয়েক কোটি টাকা ব্যায়ে নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ কাজ চলমান। প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে, ফলে ৩ বছর আগেই স্লুইসগেট এর কাজ শেষ হবে না বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জংলার খাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক জানান , “স্লুইসগেটটি'র দীর্ঘ ৩ থেকে ৪ বছর ধরে অকেজো থাকায় আমাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয় নেতা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতা এই সমস্যার মূল কারণ।”

তিনি আরো জানান, ২ বছর আগে জংলার খালের স্লুইসগেট এর ৪ টি দরজা পূনঃনির্মাণ করা হয়েছে । কিন্তু পূনঃনির্মাণ এর ৫ মাসের মাথায় একটি দরজা ছুটে পরে জায় এর পরের বছর আরো দুইটি দরজা ছুটে পরে জায় এতে করে গত বছর বর্ষার মৌসুমে আমাদের সোনালী ফসল জোয়ারের পানি উঠে নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে আমাদের প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের কয়েক কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়ে যায়। আমরা অনেক বার ইউএনও, মেম্বার চেয়ারম্যান এর কাছে অনুরোধ করেছি আমাদের স্লুইসগেট এর দরজা গুলো মেরামত করে দেওয়ার জন্য কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তাহারা শুধু নিজেদের স্বার্থ খুঁজে।

স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অবিলম্বে স্লুইসগেটগুলো সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন ছিলো, স্লুইসগেট এর কারণে এই বছর কৃষি ও জনজীবন দুইই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে ।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর