মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক
  • আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি পাটওয়ারীর
  • মস্কোতে নেওয়া হলো খামেনিকে

চট্টগ্রামে একবছরে বন্ধ হয়ে গেছে ২২টি পোশাক কারখানা

মোঃ মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত:
২৮ অক্টোবর ২০২৫, ১৫:৫৪

গতবছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২২টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে এ বছরের শুরু থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে বন্ধ হয়ে গেছে ১১টি পোশাক কারখানা। কাজের অর্ডার না থাকা এবং মালিকপক্ষের আর্থিক ‘অসচ্ছলতার’ কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্প পুলিশের করা তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্প পুলিশের করা একটি তালিকায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শুধু কারখানা বন্ধ নয়, গত এক বছরে ৭০টি কারখানায় ৩১৫ বার শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে বলেও শিল্প পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ গত ১৪ ও ১৫ অক্টোবর প্যাসিফিক গ্রুপের কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটে। এ কারণে এসব কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে সেগুলো পুনরায় সচল হয়।

এছাড়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ইপিজেডেও ৪টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানা হলো- নাসা গ্রুপের মালিকানাধীন টয় উড (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড ও এমএনসি অ্যাপারেলস লিমিটেড। অপর দুটি প্রতিষ্ঠান হলো- থিয়ানিস অ্যাপারেলস লিমিটেড এবং জেএমএস গার্মেন্টস লিমিটেড। ইপিজেডের এসব কারখানায় মোট চার হাজার ৮১৮ জন শ্রমিক কাজ করতেন।

জানা গেছে, আর্থিক সংকট, ঋণের পরিমাণ বেশি থাকায় ব্যাংক থেকে নতুন ঋণ না পাওয়া, এলসি জটিলতা ও কাজের অর্ডার না থাকাসহ নানা কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে শিল্প পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, নানা কারণে এসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা দিয়ে দিয়েছে।

জানতে চাইলে বিজিএমইএ’র পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী জানান, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে সেখানে টিকে থাকা অনেক ডিফিকাল্ট। খুব স্ট্রং কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি না হলে টিকে থাকা কষ্টের। বায়িং হাউসের মাধ্যমে যেসব ফ্যাক্টরি ছিল তারা কোনভাবে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না। যে কারণে কারখানা বন্ধ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মার্কিন ট্যারিফ ঘোষণার পর অর্ডার অনেক কমে গেছে, দামও কমে গেছে। তাছাড়া ব্যাংকে এলসি খোলা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ব্যাংক একীভূত হয়ে একটি ব্যাংকে পরিণত হওয়ায় কেউ গার্মেন্টসের জন্য সহজে এলসি খুলতে পারছে না। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেক কারখানার মালিক বর্তমান পরিস্থিতির সাথে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে না পেরেও ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।

শিল্প পুলিশ বন্ধ কারখানার যে তালিকা করেছে, তার মধ্যে থিয়ানিস অ্যাপারেলস বন্ধের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে মালিকের আর্থিক সংকট ও এলসি জটিলতা। আর জেএমএস গার্মেন্টস বন্ধের কারণ উল্লেখ আছে মালিকের আর্থিক সংকট। এছাড়া নাসা গ্রুপের দুই কারখানা বন্ধের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে ব্যাংক জটিলতা, আর্থিক সংকট এবং কাজের অর্ডার না থাকা।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর