মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ইউরোপের দেশগুলো নাকচ করলো ট্রাম্পের হরমুজ আহ্বান, কূটনৈতিক পথেই গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
  • শ্রাবন্তীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি: "আইটেম গানে পারফর্ম করতে আমার দারুণ লাগে"
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক

বাঁধ নির্মাণে ধ্বংস করা হচ্ছে মনপুরার রক্ষা কবজ সংরক্ষিত বনাঞ্চল

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, মনপুরা (ভোলা)

প্রকাশিত:
২৩ অক্টোবর ২০২৫, ১৬:৩৯

ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব থেকে সমুদ্র উপকূলকে রক্ষায় ভোলার মনপুরায় বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে চলছে বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। বাঁধ নির্মাণে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রায় ৫০ বছর বয়সী সংরক্ষিত বনাঞ্চল। শুধু তাই নয়, সংস্কার কাজের মান নিয়েও উঠেছে নানান প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধে ব্যবহার করা হয়েছে নির্ম মানের বালু মিশ্রিত মাটি। উজাড় করা হয়েছে প্রায় অর্ধ শত একর বনভূমি।

ভোলার মনপুরায় ৫০ কিলোমিটার ৭০০ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে। ভোলা জেলা মুজিব নগর মনপুরা উপকূলীয় বাদ পূর্ণবাসন নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় এই প্রকল্প টি শুরু করা হয়। শুরুথেকে এ কাজ ৬ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (১) এন.বি.ই (২)ও টি.বি.এল (৩)জি.সি.এল (৪)এল.এ.কে.এস.এস.এ (৫)পি.ডি.এল, এবং ওয়েস্টান শুরু করে এর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে ২০২৬ সালে।

এরপর স্থানীয় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সাব ঠিকাদার নিয়োগ করে ৬ টি ঠিকাদারি কোম্পানি। তারপরই শুরু হয় নানা অনিয়ম, ওঠে বিস্তর অভিযোগ। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপকূলের রক্ষাকবচ বেড়িবাঁধ নির্মাণে স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার করেছে। এমনকি বালু মিশ্রিত মাটি আনা হচ্ছে মনপুরার আশেপাশের চরগুলো থেকে। যার ফলে হুমকির মুখে পড়তেছে মানুষের জানমাল রক্ষাকবচ সংরক্ষিত চর।

বিশালাকৃতির টেন্ডারের মাধ্যমে হাজার হাজার গাছ কেটে বন থেকে সেখানে তৈরি হচ্ছে বেড়ি বাঁধ। ফলে সমুদ্রবেষ্টিত উপকূলের সবুজ বেষ্টনী দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব অনিয়মে জড়িত রয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াবদা) ও বনবিভাগের কর্মকর্তা ব্যক্তিরা, এমন দাবি এলাকা বাসির। বেড়িবাঁধের পাশের বসবাসকারীদের অভিযোগের শেষ নেই।

এছাড়াও নয়ন, ফারুক, ফিরোজ সহ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বন উজাড় করার কারণে ঝড় বন্যার সময় ঝুঁকি বাড়বে। মাটির পরিবর্তে বাঁধে বালু ব্যবহার করায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে তাদের শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে কাজের অনিয়ম সম্পর্কে জানার জন্য, পানি উন্নয়ন বোর্ড (ওয়াবদা) এর (এসও) মো: আব্দু রহমান এর কাছে মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি জানান, মনপুরার সকল কাজ বর্ষার কারণে কিছু দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। উপকূলীয় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে চর কেটে মাটি বেড়িবাঁধ এর ভেতর দেওয়ার অনুমোদন আছে। বনের গাছ ধ্বংস করার অনুমোদন আছে ।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর