মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক
  • আইনশৃঙ্খলা জোরদারের দাবি পাটওয়ারীর
  • মস্কোতে নেওয়া হলো খামেনিকে

জলঢাকায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে অনিয়ম, ডিলারকে জরিমানা

মোঃ মাসুদ রানা, নীলফামারী

প্রকাশিত:
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:৪৬

নীলফামারীর জলঢাকায় সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক ডিলারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আজ মঙ্গলবার(১৬ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন।

জানা যায়, সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পাঠানপাড়া বাজার পয়েন্টে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিক্রি চলছিল। এ সময় স্থানীয় উপকারভোগীরা অভিযোগ করেন, নির্ধারিত মূল্যে চাল কিনলেও প্রতিটি কার্ডে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত চাল কম দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন ভোক্তাদের কার্ড অনুযায়ী চাল মেপে দেখেন। তাতে অনিয়মের সত্যতা মেলে। পরে অভিযুক্ত ডিলার ফরহাদ হোসেনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযুক্ত ডিলার ফরহাদ হোসেন দাবি করেন, “গুদাম থেকেই চাল কম দেওয়া হয়েছে। আমরা কেবল কর্তৃপক্ষ থেকে যতটুকু পাচ্ছি, সেটুকুই বিতরণ করছি।”

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে চাল কম সরবরাহের কোনো সুযোগ নেই। নির্ধারিত পরিমাণ চাল যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে।”

জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, “ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্য ডিলাররা যাতে এমন অনিয়মে জড়াতে না পারে, এ ঘটনাটি তাদের জন্য সতর্কবার্তা।”

অভিযানে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।

উল্লেখ্য, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ থেকে এপ্রিল—এই দুই মৌসুমে জেলার হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি চাল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু প্রতিবারই বিভিন্ন স্থানে ওজন কম দেওয়া, তালিকাভুক্ত নয় এমন ব্যক্তিকে চাল বিতরণ, কিংবা চাল মজুত রেখে কালোবাজারে বিক্রির মতো অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও তারা জানান, নিয়মিত তদারকি না থাকলে সাধারণ মানুষ বারবার প্রতারিত হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও নজরদারি জোরদারের দাবি তুলেছেন তারা।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর