মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ইউরোপের দেশগুলো নাকচ করলো ট্রাম্পের হরমুজ আহ্বান, কূটনৈতিক পথেই গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
  • শ্রাবন্তীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি: "আইটেম গানে পারফর্ম করতে আমার দারুণ লাগে"
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক

গাইবান্ধায় কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবায় অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির অভিযোগ

মোঃ আল আমিন, গাইবান্ধা

প্রকাশিত:
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৫:৩৪

গাইবান্ধা জেলার মোট ৩১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ৩১৬টিতে হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) নিয়োজিত থাকলেও, এসব ক্লিনিকের সেবা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলার ৮ নং বোয়ালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের খামার বোয়ালী চৌরাঙ্গী কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (CHCP) আরিফ কবির নিয়মিত সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এতে চিকিৎসার জন্য আসা শিশু-কিশোর, গর্ভবতী নারী ও বয়স্করা চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দকৃত ঔষধও সঠিকভাবে সরবরাহ করা হয় না। রোগীদের অনেক সময় বলা হয়, “ঔষধ নেই অথবা চেয়ারম্যানের সিগনেচার আনতে হবে, নইলে ঔষধ পাওয়া যাবে না।” ফলে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে বাইরে থেকে ঔষধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে।

শুধু অব্যবস্থাপনাই নয়, আরিফ কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি ঔষধ আত্মসাত করে বাজারে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ তার অনিয়মের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

সূত্র জানিয়েছে, আরিফ কবির শুধু ক্লিনিককর্মী নন, তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। স্থানীয়দের ধারণা, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়েই তিনি চাকরি নিশ্চিত করেছেন এবং অনিয়মের অভিযোগের পরও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এড়িয়ে যাচ্ছেন।

গ্রামবাসীর দাবি, “কমিউনিটি ক্লিনিক হলো গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা। যদি এখানেই দুর্নীতি আর অবহেলা চলে, তাহলে গরিব মানুষ চিকিৎসা পাবে কোথায়?”

সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পান না। তবে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত তদন্ত ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর