মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ইউরোপের দেশগুলো নাকচ করলো ট্রাম্পের হরমুজ আহ্বান, কূটনৈতিক পথেই গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
  • শ্রাবন্তীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি: "আইটেম গানে পারফর্ম করতে আমার দারুণ লাগে"
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক

তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর

বাঞ্ছারামপুরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

মো. আবু রায়হান চৌধুরী, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশিত:
২৭ আগষ্ট ২০২৫, ১৩:১৪

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সোনারামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগে উঠে এসেছে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক দুর্নীতি ও নীতিবহির্ভূত কার্যকলাপের চিত্র।

সূত্রমতে, সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষক নিয়োগপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষককে নিয়োগপত্র ছাড়া দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির রেজুলেশন ছাড়াই নিজের বেতন বৃদ্ধি করেছেন, যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ। পাশাপাশি, বিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক লেনদেনে নেই কোনো স্বচ্ছতা সমস্ত খরচে অনুপস্থিত বিল-ভাউচার এবং ব্যয়ের কোনো বৈধ প্রমাণপত্র নেই।

স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, এসএসসি ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছে। এবং নগদ লেনদেনকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন এড়িয়ে যাচ্ছেন। যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির পরিপূর্ণ উদাহরণ।

অভিযোগ আরও রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ পছন্দমতো কিছু শিক্ষার্থীর বেতন মওকুফ করেন, অথচ এ সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা বা সিদ্ধান্ত গভর্নিং বডিতে গৃহীত হয়নি।

তাছাড়া, শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতায় নাম অনুপস্থিত, অনেক শ্রেণির রেজিস্টার খাতা পর্যন্ত নেই যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির জ্বলন্ত প্রমাণ। শিক্ষকগণের স্বাক্ষর ছাড়া বেতন প্রদান, গভর্নিং বডির সভায় অনীহা, এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া, বিদ্যালয়ের ভিতরেই আবাসিক কোচিং বাণিজ্য চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, এই বিষয়টি স্কুল কমিটির সাথে কথা বলেন। এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ সগীর আহমেদ বলেন, এই বেতনে কোন শিক্ষক পাচ্ছি না বিধায় ওনাকে দিয়ে কাজ চালাচ্ছি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জুলফিকার হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি শুনলাম, তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌস আরা বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে এই অনিয়ম দুঃখজনক বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমন ভয়াবহ অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণ, শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর