মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ইউরোপের দেশগুলো নাকচ করলো ট্রাম্পের হরমুজ আহ্বান, কূটনৈতিক পথেই গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
  • শ্রাবন্তীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি: "আইটেম গানে পারফর্ম করতে আমার দারুণ লাগে"
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক

আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ্

স্বৈরাচার সরকারকে প্রতিষ্ঠা করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত:
২৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৪২

সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গত ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে সারা দেশে আলোচনায় সরগরম। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা চলে। বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক মূলত বিতর্কের মধ্যে পড়েছিলেন নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে পরিচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করে দেওয়া রায় নিয়ে। একইসঙ্গে সংক্ষিপ্ত রায় বদলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে। এই রায় বাতিলের পর থেকে দেশে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট আপীল বিভাগের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক বিচার বিভাগে নগ্ন হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিগত স্বৈরাচার সরকারকে প্রতিষ্ঠা এবং টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে।

তার (খায়রুল হক) এক বিতর্কিত রায়ের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে কবর চাপা দিয়েছেন এটা পুরো বিচার বিভাগের উপর এক ধ্বংসাত্মক আক্রমণের মত । এর দেখাদেখি পরবর্তী সময়ে যত প্রধান বিচারপতি এসেছেন তারা একই দালালির পথ অনুসরণ করেছেন সকলে হেঁটেছেন বিচারহীনতার এক রাস্তায় ।

আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ্ আরো বলেন, আমি মনে করি এমন সঠিক বিচার হওয়া উচিত যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিচার বিভাগের নগ্নতার সৃষ্টি না হয় বিচারকগণ লোভ-লালসা মোহ এবং ক্ষমতার ঊর্ধ্বে থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা মানবাধিকার রক্ষা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে । তার কঠিন থেকে কঠিনতম বিচার হওয়া জরুরি যেটা বিচার বিভাগের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে বলে মনে করেন এ আইনজীবী।

দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছরের ১৭ মে তিনি অবসরে যান।

২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয় তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। এর মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ হয়ে যায়। তত্ত্বাবধায়ক বাতিল করে তিনি সংকটের সূচনা করেছিলেন। যা থেকে ফ্যাসিবাদ শেকড় গাড়ে।

হাইকোর্ট বিভাগে থাকাকালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ও সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায় দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া তিনি ঢাকার চার নদী রক্ষা, স্বাধীনতার ঘোষকসহ বিভিন্ন মামলার রায় দেন।

খায়রুল হক ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। মেয়াদ শেষ হলেও কয়েক দফা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে পুনর্নিয়োগ করা হয়। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত বছরের ১৩ আগস্ট কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন খায়রুল হক ।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর