মঙ্গলবার, ১৭ই মার্চ ২০২৬, ৩রা চৈত্র ১৪৩২ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল nagorikdesk@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • ৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু আজ
  • কমলাপুরে ঈদযাত্রার ঢল
  • “শিক্ষার্থীরা হোক জীবনের যোদ্ধা”—ডা. শফিকুরের বার্তা, রাজনীতিতে সংস্কার নিয়ে নাহিদের হুঁশিয়ারি
  • হরমুজে সামরিক জোটে ‘না’ ইউরোপের—ট্রাম্পের প্রস্তাবে অনাগ্রহ, কূটনীতিতেই ভরসা
  • খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানে ‘সিংহাসনের লড়াই’—শেষে জয় মোজতবার
  • ইউরোপের দেশগুলো নাকচ করলো ট্রাম্পের হরমুজ আহ্বান, কূটনৈতিক পথেই গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য
  • শ্রাবন্তীর খোলামেলা স্বীকারোক্তি: "আইটেম গানে পারফর্ম করতে আমার দারুণ লাগে"
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
  • তিন ঘণ্টায় বগুড়া থেকে ঢাকা পৌঁছানোর ট্রেন চালু হবে
  • সংসদে সংবিধান নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক

নূর আলী

রাজমিস্ত্রি থেকে কোটিপতি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
১৯ জুলাই ২০২৫, ১৫:৫০

দরিদ্র পরিবারের সন্তান নূর আলী (৪৭)। করতেন রাজমিস্ত্রির কাজ। জমিজমা ছিল না তেমন। বাবাও ছিলেন দিনমজুর।

বাড়ি বলতে ছিল আধাপাকা টিনের ঘর। অথচ ১০ বছরের ব্যবধানে সেই ব্যক্তি কোটিপতি বনে গেছেন। শুধু তাই নয়, আধাপাকা টিনের ঘরের জায়গায় এখন বিশাল তিনতলা আলিশান বাড়ি। যার মূল্য কোটি টাকার উপরে।

অভিযোগ উঠেছে, এনজিও’র ব্যবসা করে বিভিন্ন মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে তিনি এত সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও সমবায় অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও সুফল পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত নূর আলী পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের বোঁথড় মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত ছাকাত প্রামাণিকের ছেলে। তার সঙ্গে জড়িত স্ত্রী লাইলী খাতুন (৩৩)।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, নূর আলী দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় লেখাপড়ায় খুব একটা এগোতে পারেননি। বছর দশেক আগেও সে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। তার বাবাও দিনমজুরি করতেন। একপর্যায়ে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন নূর আলী। এভাবে চলার এক পর্যায়ে ২০০৮ সালে ‘বোঁথড় ভোগ্যপণ্য সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি এনজিও চালু করেন।

এরপরই যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পান নূর আলী ও তার স্ত্রী। কিস্তির মাধ্যমে ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি ও ঋণদান কার্যক্রম শুরু করেন। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আসতে থাকে নগদ টাকা। সেই সঙ্গে লভ্যাংশ দেওয়ার নামে সঙ্গে নেন কয়েকজন অংশীদার। যারা এনজিওটিতে লাখ লাখ টাকা লগ্নি করেন। সবমিলিয়ে কয়েক বছরেই ফুলে ফেঁপে ওঠে নূর আলীর জীবন-জীবিকা। এর মধ্যে ২০১০ সালে একতলা আধাপাকা টিনশেড ঘরের জায়গায় কোটি টাকা খরচ করে তিনতলা আলিশান বাড়ির কাজ শুরু করেন নূর আলী। ব্যাংকেও জমতে থাকে টাকা। এর মধ্যে নিজ এলাকায় কিছু জায়গাও কেনেন প্রায় ৩০ লাখ টাকায়।

এনজিওটি’র দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে তাদের মোট আয় ৫ কোটি ২৯ লাখ ৭৪৭ টাকা। আর ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত তাদের দায়-দেনা মূলধন ২৬ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৯ টাকা।

ভুক্তভোগী তাহমিনা খাতুন বলেন, ‘তাদের প্রলোভনে প্রথমে আমি এক লাখ ৬৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করি। ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত তারা আমাকে ঠিকমতো মুনাফা দিয়েছেন। পরবর্তীতে বার্ষিক শতকরা ১২ টাকা লভ্যাংশের শর্তে ২০২১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ২৮ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিড প্রকল্প (এফডিআর) এ জমা রাখি। এই ফিক্সড ডিপোজিটের টাকার ওপর কয়েক মাসের লভ্যাংশ দেওয়ার পর গত প্রায় ২২ মাস যাবত লভ্যাংশ দিচ্ছেন না নূর আলী ও তার স্ত্রী লাইলী খাতুন। আসল টাকা চাইলে সেটাও ফেরত দিচ্ছেন না।’

চাটমোহর উপজেলার বোঁথড় গ্রামের খোকনের স্ত্রী মিনা রানী বলেন, ‘২০১৭ সালের ১৫ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নূর আলীর এনজিওতে মাঠকর্মীর চাকরি করেছি। চাকরিকালীন জামানত হিসেবে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে প্রতিমাসে তার বেতন থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা কেটে রাখতেন তারা। পরে আমাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু অদ্যাবধি সেই জামানতের টাকা ফেরত দেননি তারা।’

বোঁথড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমরা দেখেছি সে (নূর আরী) রাজমিস্ত্রির কাজ করতো। খুব দুর্দিন গেছে একসময়। খেয়ে না খেয়ে দিন গেছে তাদের। আমি বিদেশ চলে যাই। ঘুরে এসে দেখি তার তিনতলা বিশাল বাড়ি। পরপর দুইটা জমিও কিনেছে। মাত্র দশ বছরে তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ গয়ে গেছে। দুদক খতিয়ে দেখলে সব বেরিয়ে আসবে।’

ইউনুস আলী নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে সে আজ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। বাড়ির মূল্যই এক কোটি টাকার উপরে। আমার এক আত্মীয় সেখানে আজীবন সদস্য হয়ে ২৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। সে টাকাও ফেরত দিচ্ছে না, লভ্যাংশও দিচ্ছে না। তার এই প্রতারণার বিচার হওয়া দরকার।’

অভিযুক্ত নূর আলী বলেন, ‘আমাদের সমিতির অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। তাহমিনাও জানেন। করোনার পর থেকে আমরা খুব সমস্যায় পড়ে গেছি। ঋণ নিয়ে অনেক মানুষ টাকা দিচ্ছে না। অনেকে পালিয়ে গেছে। তাহমিনা টাকা পাবে, এটা সঠিক। কত টাকা খরচ হয়েছে বাড়ি করতে জানতে চাইলে নূর আলী বলেন, সেটা হিসেব করি নাই।’

চাটমোহর উপজেলা সমবায় অফিসার মুর্শিদা খাতুন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি জেলা অফিসে জানিয়েছি। এ বিষয়ে জেলা থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করে আমাদের জানাবে। তদন্তের পর সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ হাতে পেয়েছি। আমরা সমবায় অধিদপ্তরকে সংযুক্ত করে বিষয়টির তদন্ত ও পর্যালোচনা করব। তারপর অভিযোগের প্রমাণ পেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর